সোভিয়েত ইউনিয়নকে রুখতেই পশ্চিমাদের অনুরোধে ওয়াহাবিবাদ প্রচার ও বিভিন্ন দেশে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণে অর্থায়ন করা হয়: সৌদি যুবরাজ
হাটে হাঁড়ি ভাঙলো সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ওয়াশিংটন পোস্টে এক সাক্ষাৎকারে প্রিন্স সালমান বলেন:
"সমাজতন্ত্র ঠেকাতে পশ্চিমাদের অনুরোধেই ওয়াহাবিবাদ প্রচার"
ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে প্রেস, কাশ্মীর ও আরটি ডটকম, রাশিয়া রিপোর্ট করেছে;-
"সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, সমাজতন্ত্রকে ঠেকাতে পশ্চিমারা ওয়াহাবিবাদকে প্রচারে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে ওয়াশিংটন পোস্টকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
এই সাক্ষাৎকারে সালমান আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর কারণ ছিল, মুসলিম দেশগুলো যেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাববলয়ে চলে না যায়।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে দেয়া ৭৫ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, 'এই ওয়াহাবিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সৌদি আরব তার পথ হারিয়েছে। সৌদি আরব আবারও মধ্য ও উদারপন্থী।
অন্য আরেকটি পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে জানায়:
"লক্ষ্য ছিল সোভিয়েতকে রোখা ওয়াহাবিবাদের প্রচার-প্রসার পশ্চিমাদের কথাতেই: প্রিন্স"
"অবশেষে ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ল পশ্চিমাদের বিড়াল। ওয়াহাবিবাদকে এখন পশ্চিমারা 'সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর' বলে। তাদের দৃষ্টিতে এখন এই মতবাদ খোঁড়া। কিন্তু ৭০ দশকে ঠান্ডাযুদ্ধের সময় মুসলিম দুনিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব রুখতে পশ্চিমাদের অনুরোধেই ওয়াহাবিবাদের প্রচার প্রসারে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছিল সৌদি আরব।
ওয়াশিংটন পোস্টে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এভাবেই চাঁচাছোলা ভাষায় পশ্চিমাদের বেলুন চুপষে দিলেন তাদেরই একান্ত অনুগত ও প্রিয়পাত্র সৌদি প্রিন্স।
প্রিন্সের কথায়, পশ্চিমারা তখন সোভিয়েত-আতঙ্কে এবং সমাজতন্ত্র জুজুতে ভূগছিল। তাই মুসলিম দুনিয়ায় যাতে সোভিয়েত রাশিয়া খুব বেশি শিকড় গাড়তে না পারে, মুসলিম দেশগুলো যেন কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে না পড়ে, সে জন্যই তাদেরকে ওয়াহাবিয়দের নিগড়ে বেঁধে ফেলতে চেয়েছিল আমেরিকার সিআইএ তথা পশ্চিমারা।
ওয়াহাবি ইজমের উৎপত্তি:
অষ্টাদশ শতকে আরবের নযদ থেকে মূলত সুন্নি মুসলিমদের মধ্যে ওয়াহাবিবাদের পথচলা শুরু হয়। এর উৎপত্তি মোহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব দ্বাদশ শতকের বিশ্বনন্দিত ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনে তাইমিয়াহ দ্বারা প্রভাবিত হন। ওয়াহাবিবাদ ছিল মূলত শিরক বিদআতমুক্ত ইসলামি চর্চা। তাই সৌদি আরব এখনও মাজার, দরগা, পীর-দরবেশ, কবর পুজা ইত্যাদি শিরক-বিদায়াতের আখড়া হয়ে ওঠেনি।
যুবরাজের কথায়, তৎকালীন সৌদি আরব প্রকৃত ইসলামের প্রচার-প্রসার না করে ওয়াহাবিবাদের প্রসারে মনোনিবেশ করেছিল। এই মতবাদে ইসলামের আংশিক প্রতিফলন থাকলেও সৌদি বাদশাহরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ওহাবীবাদ কিংবা ইসলাম দুয়ের কোনোটাই গ্রহণ করেনি। কারণ বংশপরম্পরায় গদ্দিনশীন হয়ে দেশ বা সরকার পরিচালনাকে ইসলাম মান্যতা দেয় না। রাজতন্ত্র নয় গণতন্ত্রের কথাই বলা হয়েছে ইসলামে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অটোমান সাম্রাজ্য বা তুর্কি খেলাফতী শাসনের মূলচ্ছেদে অন্যতম কুশীলব ছিল সৌদি আরব। তারপর ১৯৪২ সালে গড়ে তোলা হয় পশ্চিমা অনুগত মুসলিম প্রধান দেশ আরবকে। খিলাফত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব হিসেবে আরবের প্রথম বাদশাহ হন ইবনে সাউদ। তাঁরই নাম অনুসারে দেশটির নামকরণ হয় সৌদি আরব।