বাংলাদেশ ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীদের উন্মুক্ত উগ্রতা দেখতে পাচ্ছে
![]() |
আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর এর ঢাকার মিছিলের ছবি |
নিউ ইয়র্ক টাইমস এর ঢাকা প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনের সাথে সম্পূর্ণ একমত না। তারা লিখেছে, "বাংলাদেশ যখন তার গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং তার ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যৎ তৈরির চেষ্টা করছে"- কথাটা মোটেও সঠিক নয়। বরং অবৈধভাবে অধিষ্ঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের চোখের সামনেই নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী দলগুলো আস্ফালন দেখাচ্ছে, সরকার কিছুই বলছে না। গণতন্ত্রের ধারায় উত্তরণে তাদের সদিচ্ছার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তেমন দৃশ্যমান উদ্যোগ নাই। উল্টো বিরোধী মত পোষণকারীদের দমন করা হচ্ছে।
যাইহোক, কিছুটা সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তাই প্রতিবেদনটি বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো।
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
"১৭৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা থেকে ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে এক তীব্র পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
চরমপন্থীরা নারীদের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী নেতার উৎখাতের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে একটি শহরের ধর্মীয় মৌলবাদীরা ঘোষণা করে যে তরুণীরা আর ফুটবল খেলতে পারবে না।
অন্য একটি শহরে, তারা পুলিশকে একজন পুরুষকে মুক্তি দিতে বাধ্য করে, যে জনসমক্ষে একজন মহিলাকে চুল না ঢেকে রাখার জন্য হয়রানি করেছিল। তারপর তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়া হয়।
এরপরে আরও নির্লজ্জ আহ্বান জানানো হয়। রাজধানী ঢাকায় এক সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে যে, যদি সরকার ইসলামকে অসম্মানকারী কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়, তাহলে তারা নিজের হাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে।
কয়েকদিন পর, একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ইসলামী খেলাফতের দাবিতে একটি বিশাল মিছিল বের করে।
বাংলাদেশ যখন তার গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং তার ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যৎ তৈরির চেষ্টা করছে, তখন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মুখোশের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা ইসলামী চরমপন্থার ধারাটি ফুটে উঠছে।
সাক্ষাৎকারে, বেশ কয়েকটি ইসলামী দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা - যাদের মধ্যে কয়েকটি আগে নিষিদ্ধ ছিল - স্পষ্ট করে বলেছেন যে তারা বাংলাদেশকে আরও মৌলবাদী দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য কাজ করছেন, এমন একটি পরিবর্তন যা দেশের বাইরে খুব কমই লক্ষ্য করা গেছে।"
The New York Times
01 April 2025