বঙ্গবন্ধুর বিবৃতির আগেই রাশিয়ার প্রাভদা পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ উল্লেখ করা হয়
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক হয়। বলা হয়ে থাকে ‘বঙ্গবন্ধু মুখ ফসকে ৩ লাখের জায়গায় ৩ মিলিয়ন বলে ফেলেছিলেন। এ কথাটা জামাতে ইসলামী সহ স্বাধীনতা বিরোধী অন্যান্যরা বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।
তথ্য ঘেটে
দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পান ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২। তার আগেই
০৪ জানুয়ারিতে রাশিয়ার বিখ্যাত ‘প্রাভদা’ পত্রিকায়
প্রকাশিত হয় যে, বাংলাদেশের গণহত্যায় ৩০ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।
বাংলাদেশে
পাকিস্তান মিলিটারির গনহত্যা নিয়ে ৩০ লক্ষ মৃতের সংখ্যাকে মিথ্যে প্রমানের সবচেয়ে
বড় যে চেষ্টা করা হয় তার অন্যতম তিনটি সোর্স হলো:
(১) বিবিসির বাংলা বিভাগের প্রাক্তন উপপ্রধান
সিরাজুর রহমান বলেন, তিনি শেখ মুজিবকে শহিদের সংখ্যা ৩ লক্ষ বলেছিলেন, যা শেখ
মুজিব ৩ মিলিয়ন হিসেবে প্রচার করেন। -কিন্তু শেখ মুজিবের ইংরেজি বলার দক্ষতা দেখে
মনে হয় না তিনি মিলিয়ন শব্দের অর্থ জানতেন না।
(২) পাকিস্তান সরকার ৭১ এর গনহত্যা নিয়ে কমিশন গঠন
করে যার নাম "হামিদুর রহমান কমিশন"। সেখানে তিনি বলেন বাংলাদেশে ১৯৭১
সালে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে।
(৩) শর্মিলা বসু তার ডেথ রেকনিং এ পাকিস্তানের অপরাধ
প্রায় হোয়াইট ওয়াশ করার চেষ্টা করেছেন।
উপরের
তিনটি আপত্তির জবাবে অনেকেই নানাভাবে হিসেব-প্রমাণ দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন,
তবুও বিরোধিতাকারীরা গুজব রটনা থেকে বিরত থাকে না। আজ আপনাদেরকে প্রমাণ সহ একটি
নতুন তথ্য দেবো।
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে। ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া ঘুরে ঢাকায় এসেছিলেন ১০ জানুয়ারি। তিনি ৭১ এর মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে কিছু বলার আগেই রাশিয়ার ‘প্রাভদা’ পত্রিকা ০৪ জানুয়ারি নিউজ করেছিলো- “মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন”।
তাহলে ৩০ লক্ষ মৃতের সংখ্যা কমানোর প্রচেষ্টা করা
হয় কেন?
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জামাতে ইসলামী এই সংখ্যা কমানোর চেষ্টা
করার কারন আমরা সবাই জানি।
কিন্তু পশ্চিমা ইনস্টিটিউশান ও তাদের
ল্যাপডগ একাডেমিক ও জার্নালিস্টরা এই অপচেষ্টা চালানোর মূল কারন ৭১ এর গনহত্যায়
তারা যুক্ত ছিল। ব্লাড টেলিগ্রামের ব্যাপারে আমরা সবাই জানি। এজন্য তারা নিজেদের
অপরাধ আড়াল করতে চায়।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট