জেনে রাখা ভালো সানজিদা খাতুন কাজী মোতাহার হোসেনের মেয়ে

 
ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন  ও  ডঃ সানজিদা খাতুন

জেনে রাখা ভালো, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ সানজীদা খাতুন ছিলেন জাতিয় অধ্যাপক ডঃ কাজী মোতাহার হোসেনের মেয়ে এবং মাসুদ রানার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেনের বোন।

 

“সানজিদা খাতুনের পরিবার বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। সানজিদা খাতুনের বোন ফাহমিদা খাতুনও হিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব-রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। তার ভাবী অর্থাৎ কাজী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমীন ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। ফরিদা ইয়াসমীনের আরো তিন বোন, ফৌজিয়া ইয়াসমিন, নীলুফার ইয়াসমিন ও সাবিনা ইয়াসমিন সঙ্গীত জগতে প্রতিষ্ঠিত নাম।“

 

অধ্যাপক ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন কেবল একজন পরিসংখ্যানবিদ এবং সুসাহিত্যিকই ছিলেন না, বরং এসবের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ু ছিলেন। দাবা খেলায় তিনি পুরো পাকিস্তানের মধ্যে সেরা ছিলেন বহু বছর ধরে।


কাজী মোতাহার হোসেনকে কাজী নজরুল ইসলাম ভালোবেসে ‘মতিহার’ বলে ডাকতেন। কাজী মোতাহার হোসেনের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুলের লেখা একটি চিঠি কেবল চিঠি হিসেবেই না, সাহিত্যের বিচারেও তা ছিল নজরুলের অনবদ্য সৃষ্টি। গুগলে এবং ইউটিউবে সেই চিঠির পাঠ খুঁজে পাবেন। এখানে স্ক্রিনশট দেয়া হলো।


কাজী মোতাহার হোসেনকে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের চিঠি



মজার একটি ঘটনা আছে‌।

অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন বক্তব্য দিতে কিংবা সম্মাননা গ্রহণ করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছেন। কাজী মোতাহার হোসেন প্রত্যেক শিক্ষকের সাথেই কুশল বিনিময় করে এগোচ্ছেন। যখন তাঁরই মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সানজিদা খাতুনের সামনে এলেন- যথারীতি কাজী মোতাহার হোসেন বললেন, আপনি ভালো আছেন তো? সানজীদা খাতুন বললেন, বাবা আমি আপনার মেয়ে! কাজী মোতাহার হোসেন বললেন, ও মেয়ে, তা আপনি ভালো আছেন তো? ঘটনাটা বহুদিন আগে পড়েছিলাম।‌ সামান্য উনিশ-বিশ হতে পারে, তবে মূল গল্পটা এমনই।


আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, বাঙালির চিরাগত অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে যারা বহুদূর এগিয়ে নিয়েছেন তাদের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী আব্দুল ওদুদ সহ অসংখ্য মানুষ রয়েছেন। আমাদের সরকারগুলোর সমস্যা হচ্ছে, তারা এসব মানুষকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেনি।


আমাদের দেশের মানুষ আরজ আলী মাতুব্বরের লেখা, কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা, সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা, কাজী আব্দুল ওদুদের লেখার সাথে খুব একটা পরিচিত না। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষেরা মাহমুদুর রহমান, গুজব-সম্রাট পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, তারেক মনোয়ার হুজুর, আব্বাসী হুজুর, আজহারী হুজুর, সাঈদী হুজুর, গুনবী হুজুরের বক্তব্যের সাথে পরিচিত।


আমাদের দেশের মানুষদেরকে তাদের সূর্যসন্তানদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি। আর সেজন্যই, আমাদের যখন এগিয়ে যাওয়ার কথা তখন আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যখন দেশ গড়ার কথা তখন আমরা দেশটাকে ভেঙে ফেলছি। আমাদের যখন দেশটাকে বৃক্ষ দিয়ে ভরে ফেলার কথা তখন আমরা আগুন লাগিয়ে সব পুড়িয়ে দিচ্ছি। ছেলেদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের মেয়েদের যখন এগিয়ে যাওয়ার কথা তখন আমাদের মেয়েরাই এখন বোরকাবন্দি হতে চাইছে!


মূল লেখাঃ Abdullah Al Masud

(আংশিক সংযোজিত/সম্পাদিত)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url